সত্যের সন্ধানে বিশ্বজুড়ে
পোর্টাল: www.anb24.net | প্রিন্টের সময়: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম
কুমিল্লার কৃতি সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী জীবনে স্বপ্ন ছিল শিক্ষার আলো ছড়ানো
স্মরণ: কুমিল্লার মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী
প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থে জন্মভূমিতে শিক্ষার সাম্রাজ্য গড়েছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী
মোঃ শাহজাহান বাশার
এক হাতে ট্যাক্সিক্যাবের স্টিয়ারিং, অন্য হাতে জন্মভূমির মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবনে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন অর্থ; কিন্তু সেই অর্থের বড় অংশ নিজের বিলাসী জীবন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে ব্যয় না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন জন্মভূমির মানুষের কাছে। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটাই—নিজ এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী কিংবা দরিদ্র সন্তান শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দীর্ঘ পথচলায় একে একে গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ, বালিকা বিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রি-ক্যাডেট স্কুল, মাদ্রাসা, লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান এবং একটি ফাউন্ডেশন। তিনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজ গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর কর্মকাণ্ড সেই দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ তাঁর শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল—একটি সাধারণ গ্রাম। এই গ্রামের সঙ্গে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর সম্পর্ক কেবল জন্মসূত্রের নয়; বরং তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময়, শ্রম, উপার্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জড়িয়ে আছে এই জনপদের সঙ্গে। প্রবাসের হাজার হাজার মাইল দূরত্ব তাঁকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। বরং দূরত্ব যত বেড়েছে, জন্মভূমির মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ যেন ততই গভীর হয়েছে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত মহানগরে ট্যাক্সি চালানো সহজ কোনো কাজ নয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নগরজীবনের ব্যস্ততা, প্রতিদিনের নানা বাস্তবতা এবং প্রবাসজীবনের দায়িত্বের মধ্যেও তিনি নিজের এলাকার শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করেছেন। প্রবাসে নাগরিকত্ব ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টও তাঁকে বহন করতে হয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি।
তাঁর এই স্বপ্নের শিকড় খুঁজলে ফিরে যেতে হয় বাবা-মায়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গায়। জন্মভূমি ও পরিবারকে ঘিরে থাকা স্মৃতি থেকেই নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় তৈরি হয়। সেই প্রত্যয়ের বাস্তব রূপ দেখা যায় ১৯৯৭ সালে, যখন ধান্যদৌল গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এটিই ছিল তাঁর দীর্ঘ শিক্ষা আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা।
একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্যেই তাঁর উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে তিনি একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাঁর উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী হাইস্কুল কাম কারিগরি কলেজ, মুম-রোহান চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল এবং ধান্যদৌল আশেদা-জোবেদা খান চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। একই ধারাবাহিকতায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ফাউন্ডেশন।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিসর দেখলে বোঝা যায়, তাঁর শিক্ষা ভাবনা কেবল একটি নির্দিষ্ট স্তরের শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা—বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ তৈরির চেষ্টা রয়েছে এই উদ্যোগের মধ্যে। একই সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষার জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বিস্তৃত কাঠামো গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দরিদ্র, অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র খরচে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়াকে তাঁর শিক্ষা উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ তাঁর ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য যেন সন্তানের শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি পরিবারের সন্তানকে শিক্ষিত করে তোলা শুধু ওই পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করে না; এর সঙ্গে বদলে যেতে পারে একটি পুরো প্রজন্মের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান। সেই জায়গা থেকেই ধান্যদৌলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগকে দেখছেন স্থানীয়রা। একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া, একটি কিশোরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা কিংবা একজন তরুণকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া—দীর্ঘমেয়াদে এগুলোই একটি সমাজের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর উদ্যোগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। মানুষের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি আধুনিক লাইব্রেরি। শিক্ষার সঙ্গে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে এসব লাইব্রেরি স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য জ্ঞান অর্জনের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও তাঁর উদ্যোগ রয়েছে। ধান্যদৌল ও আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক মেডিকেল ক্লিনিক/হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগও জনকল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর পুরো কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ধারণা—শিক্ষাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর বিশ্বাস, সুশিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন যেমন বদলে দেওয়া যায়, তেমনি একটি পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎও পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই নিজের জীবনের উপার্জনকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের পরিমাপক হিসেবে দেখেননি; বরং সেটিকে সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও তাঁর জীবনযাত্রা একটি আলাদা বার্তা বহন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ পেশাজীবী হিসেবে কাজ করছেন, কেউবা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তাঁদের একটি অংশ আবার নিজ এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর কর্মকাণ্ডও সেই বৃহত্তর প্রবাসী অবদানের একটি স্থানীয় উদাহরণ।
তাঁর জীবনের গল্পে ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে উপার্জন করা যেমন কঠিন, তেমনি সেই উপার্জনের বড় অংশ অন্যের জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্তও সহজ নয়। বিশেষ করে যখন সেই ব্যয়ের ফল তাৎক্ষণিকভাবে নিজের জীবনে ফিরে আসে না। কিন্তু তিনি দীর্ঘমেয়াদি ফলের কথা ভেবেছেন—আজ একটি স্কুল, কলেজ বা লাইব্রেরি তৈরি হলে আগামী কয়েক দশক ধরে সেখান থেকে শিক্ষার্থী উপকৃত হতে পারে। একটি প্রজন্ম শিক্ষিত হলে তার প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ কারণেই ধান্যদৌলের মানুষের কাছে তাঁর পরিচয় শুধু একজন প্রবাসী হিসেবে নয়। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দাতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে এই উদ্যোগের গুরুত্ব আলাদা। অনেকের কাছে তিনি ‘শিক্ষার আলোর ফেরিওয়ালা’—একটি প্রতীকী পরিচয়, যার মাধ্যমে তাঁরা তাঁর দীর্ঘদিনের শিক্ষা উদ্যোগকে তুলে ধরেন।
তবে কোনো শিক্ষা উদ্যোগের সাফল্য কেবল প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীর সংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। শিক্ষার মান, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা, অবকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা—সবকিছু মিলিয়েই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হয়। ফলে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একইভাবে তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও প্রজন্মান্তরে কার্যকর রাখতে দক্ষ প্রশাসন, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত শিক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ একজন মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলেও সেটিকে যুগের পর যুগ সফলভাবে পরিচালনা করা একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
তারপরও একটি গ্রামের মাটিতে শিক্ষা বিস্তারের যে স্বপ্ন নিয়ে একজন প্রবাসী বছরের পর বছর শ্রম দিয়েছেন, সেই স্বপ্নের ব্যাপ্তি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরীতে ট্যাক্সি চালিয়ে উপার্জন করা অর্থের একটি অংশ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন ধান্যদৌলের মানুষের কাছে। সেই অর্থে নির্মিত হয়েছে ভবন, তৈরি হয়েছে শ্রেণিকক্ষ, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার সুযোগ এবং গড়ে উঠেছে একটি বৃহত্তর সামাজিক উদ্যোগ।
একজন মানুষের জীবনকাহিনি কখনো কখনো একটি বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, প্রবাসযাপন, কঠোর পরিশ্রম এবং জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা মিলেমিশে তৈরি করেছে এমন একটি গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষা। তাঁর নিজের ভাষায় কিংবা তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যে দর্শনটি সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়, তা হলো—অর্থের প্রকৃত মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের জীবন বদলাতে কাজে লাগে।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল গ্রামে একের পর এক শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী তাঁর সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রয়োগ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, তারা শুধু একটি গ্রামের নয়, বৃহত্তর সমাজের ভবিষ্যৎ সম্পদ। এই শিক্ষার্থীদের কেউ শিক্ষক হবে, কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হবে—আর তাদের জীবনের সেই পথচলার শুরু হতে পারে ধান্যদৌলের কোনো একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে।
প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ যখন জন্মভূমির মানুষের শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগ হয়, তখন সেটি কেবল অর্থ ব্যয়ের ঘটনা থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উত্তরাধিকার। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড সেই উত্তরাধিকারেরই একটি উদাহরণ। তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া; সেই স্বপ্নকে কেন্দ্র করে ধান্যদৌলে যে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে উঠেছে, তার সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন হবে আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের সাফল্যে।
নিজের জন্য কত সম্পদ রেখে গেলেন—তার চেয়ে সমাজের জন্য কতটা সুযোগ তৈরি করে গেলেন, ইতিহাস অনেক সময় সেই হিসাবই মনে রাখে। মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর জীবন ও কর্মের গল্পও সেই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। নিউইয়র্কের ট্যাক্সিক্যাবের স্টিয়ারিং থেকে কুমিল্লার ধান্যদৌলের শিক্ষাঙ্গন—দুই ভিন্ন ভূখণ্ডের এই দীর্ঘ যাত্রার কেন্দ্রে রয়েছে একটিই স্বপ্ন: মানুষকে শিক্ষিত করা, সমাজকে এগিয়ে নেওয়া এবং জন্মভূমির মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কল্যাণের পথ তৈরি করা।
লেখক: মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিক, দৈনিক জনতার মতামত ও দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন, যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ অনলাইন গণমাধ্যম সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা
পাঠকদের মতামত 0
শালীন ও গঠনমূলক মন্তব্য কাম্যরামগড় বিজিবির পরিচালিত কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ
৬ ঘণ্টা আগেপ্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি লেবার পার্টির
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ডেমো নিউজ
২২ জুলাই, ২০২৬দিনাজপুরে টানা বর্ষণে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
২২ জুলাই, ২০২৬উত্তরাঞ্চলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা
২২ জুলাই, ২০২৬কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধিতে নিরাপত্তা জোরদার
২২ জুলাই, ২০২৬ফটো কার্ড স্টাইল নির্বাচন করুন
সংবাদের ছবি দিয়ে কিভাবে ফটো কার্ডটি ডাউনলোড করতে চান অপশন সিলেক্ট করুন
ANB24
সত্যের সন্ধানে বিশ্বজুড়ে
কুমিল্লার কৃতি সন্তান মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী জীবনে স্বপ্ন ছিল শিক্ষার আলো ছড়ানো
প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থে জন্মভূমিতে শিক্ষার সাম্রাজ্য গড়েছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী
ANB24
সত্যের সন্ধানে বিশ্বজুড়ে