বাড়িজাতীয়লাল আভায় মেতেছে কুমিল্লা রেলস্টেশন, ধর্মসাগর-পার সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা

লাল আভায় মেতেছে কুমিল্লা রেলস্টেশন, ধর্মসাগর-পার সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা

 

 

 

 

 

বাংলার প্রকৃতি এখন আগুনঝরা সময়টাই কাঠফাটা রোদ্দুর আর উষ্ণতাপের। কিন্তু এ তীব্র তাপ, রোদ্দুর ,গামের  কড়া গন্ধ নিমিষে ছোট্ট একটি স্বপ্নের দেশে চলে যায় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন ধর্মসাগর সহ বিভিন্ন এলাকায় সৌন্দর্যময় করছে কৃষ্ণচূড়া।

রাস্তায় পা বাড়ালেই  আবছা স্বপ্নে যেমন দেখা যায় পাপড়ির ভারে  চাপা পড়ে গেছে ব্যস্ত সব পথ। হালকা হওয়ায় দুলে যাওয়া পাপড়ি তার রঙে রাঙ্গিয়ে দিয়েছে পুরো পথটাকে। ঠিক তেমনি এক স্বপ্নের রাজ্যে যেন রূপকথা থেকে উঠে এসেছে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন, ধর্ম সাগর এলাকা। করোনার এসময়কার সৌন্দর্য স্টেশন, ধর্ম সাগর সহ নগরজুড়ে ঘিরে আছে। একটুখানি আবির্ভাব হয়েছে গ্রীস্মের। যেখানে প্রায় সব ফুল মৃত্যুর পথে সেখানে কিছুটা পরিকল্পনা করে হয়তো কৃষ্ণচূড়া এই সময়টাকে বেছে নিয়েছে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা না করে থাকতে পারবে না কেউ, কি চমৎকার রূপ মাধুর্য সেজে উঠেছে আমাদের দৈনিক চলার বিভিন্ন পথ, দূর-দূরান্ত থেকে যানবাহন আসা মানুষজন। সকলেই এক নিমিষে কাটিয়ে দেয় ।

 

 

 

 

রাস্তার পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়ার গাছ গুলো যেন পূরণ করে দেয় অভ্যর্থনার কাজটি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় আগুন জ্বলছে গ্রীষ্মের দাবদাহে । শাখায় শাখায় অগ্নি ফুলকি দুলছে হাওয়ার তালে। এই বুঝি ছুটে এসে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে যাবে সবকিছু। কিন্তু কাছে গেলে তার ভাবমূর্তি একেবারে উল্টো ।তার শীতল ছায়ায় আরো বেশি কোমল হয়ে যায় খালি পায়ে যখন পাপড়ি ছোঁয়া লাগে। গ্রীষ্মের এক একটি উষ্ণ হাওয়ার দল আসে আর  ঝরিয়ে দিয়ে যায় এক একটি পাপড়ি। চির সবুজ পাতার শাখা থেকে মাটিতে এসে পৌঁছাতে কি জানি কত কি ভেবে নেয় সে । আপন মনে লাল আলোর চমক দিয়ে সে তার বাসস্থান করে নেয় মাটিতেই। আর এই অপরূপ দৃশ্যের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে সকল পথচারীগণ। থমকে যায় সৌন্দর্য পিপাসুগন।এ উজ্জ্বল আলোর ছ’টা নিয়ে নগরীর খুদে শিক্ষার্থী মোঃ রিফাত ইসলাম বলে, লাল রঙের এই উজ্জ্বলতা হল- ভালোবাসার রঙ। কৃষ্ণচূড়ার এই  লাল রঙ আমাকে মুগ্ধ করেছে আরো বেশি । বিকালে যখনই হাঁটতে বের হই মন চায়  হাঁটতেই থাকি এই রাস্তা ধরে। সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয় এখানে এসেই । প্রকৃতি সারা বছর চিরল  পাতার সঙ্গে যদি ফুলগুলো রেখে দিত- তাহলে সব মানসিক শান্তির উৎস হয়তো এখানে এসে। কৃষ্ণচূড়া ফুটছে, আর ঝরছে আর তার ভার জমাচ্ছে পথে।  পুরানোর নয় তার এই সৌন্দর্য।  নতুন করে সবাইকে নগরীর শান্ত, সুন্দর মনোরম পরিবেশে জড়িয়ে নিচ্ছে এ রক্তিম আভা। এ যেন, কুমিল্লা নগরীর  বুকে অগ্নিপুষ্প কর্ণ।  মঞ্জুরিতে  মঞ্জুরিতে মেখে রেখেছে ভালোবাসার আহ্বান, রেখেছে মুগ্ধতার আহ্বান।

 

 

 

 

তাই তো এই মুগ্ধতার  লাল চত্বরে বার বার ফিরে আসছে সবার মুগ্ধপ্রাণ।সৌন্দর্য  কাতর দৃষ্টির তৃষ্ণা মিটছে কিছুতেই।  আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় বলেছেন- কৃষ্ণচূড়ার রাঙ্গা মঞ্জুরি কণে -আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে। তার এমন পঙক্তি দিয়েই বুঝা যায় কতটা সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে দান করেছে।

 

 

 

 

 

 

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, বুড়িচং- কুমিল্লা।

ইউটিউবে আমরা...

 
এএনবি২৪ ডট নেটhttps://anb24.net
প্রকাশক ,মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান।,
আরও পড়ুন

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ